নেপচুন



 কাইপার বেষ্টনী গ্রহাণু বেষ্টনীর মতই বিভিন্ন বস্তুর একটি বিশাল বেষ্টনী। এখানে অবস্থিত বস্তুগুলোকে ধ্বংসাবশেষ বলা যায় যেগুলো মূলত বরফ দ্বারা গঠিত। এই অঞ্চলের শুরু সূর্য থেকে ৩০ এইউ দূরত্বে আর শেষ ৫০ এইউ দূরত্বে। এখানকার বস্তুগুলো অধিকাংশই ক্ষুদ্র সৌর জাগতিক শ্রেণীর মধ্যে পড়ে। এর মধ্যে অনেকগুলোই বৃহত্তম কাইপার বেষ্টনী বস্তু যেমন, কুয়াওর, ভ্যারুনা, ২০০৩ ইএল৬১

২০০৫ এফওয়াই৯ এবং অরকাস বস্তু দুটিকে অচিরেই বামন গ্রহের মর্যাদা দেয়া হতে পারে। এই বেষ্টনীতে সম্ভবত ১০০,০০০ এরও বেশি বস্তু আছে যাদের ব্যাস ৫০ কিলোমিটারের উপরে। কিন্তু কাইপার বেষ্টনীর বস্তুগুলোর সমন্বিত ভর পৃথিবীর মাত্র এক দশমাংশ, এমনকি একশত ভাগের এক ভাগও হতে পারে। অনেক কাইপার বেষ্টনী বস্তুরই নিজস্ব এক বা একাধিক স্যাটেলাইট আছে। এদের মধ্যে অধিকাংশেরই কক্ষপথ এমন যে তা এটিকে ভূকক্ষ সমতলের বাইরে নিয়ে যায়।

কাইপার বেষ্টনীর বস্তুগুলোকে সহজেই দুটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে: চিরায়ত (ক্ল্যাসিক্যাল) এবং রেজোন্যান্ট। নেপচুনের কক্ষপথের সাথে যে বস্তুর কক্ষপথের রেজোন্যান্স আছে সেটিই রেজোন্যান্ট শ্রেণীর মধ্যে পড়ে। রেজোন্যান্স আছে বলতে বোঝায়, যে সময়ে নেপচুন সূর্যকে তিন বার প্রদক্ষিণ করে সে সময়ে উক্ত বস্তুটি হয়তো সূর্যকে দুই বার আবর্তন করে। নেপচুনের নিজের আবর্তনের মাধ্যমেই প্রথম রেজোন্যান্সটি শুরু হয়। চিরায়ত নেপচুনোত্তর বস্তু সেগুলোই যেগুলোর কক্ষপথের সাথে নেপচুনের কক্ষপথের কোন রেজোন্যান্স নেই। ৩৯.৪ এইউ থেকে ৪৭.৭ এইউ পর্যন্ত বিস্তুত অঞ্চলে এই বস্তুগুলো অবস্থান করে। এই অঞ্চলের বস্তুগুলো সাধারণভাবে কিউবিওয়ানো নামে ডাকা হয়। এ ধরনের প্রথম যে বস্তুটি আবিষ্কৃত হয়েছিল সেটি হচ্ছে ১৯৯২ কিউবি১

প্লুটো এবং শ্যারন
প্লুটো নামক বামন গ্রহটি কাইপার বেষ্টনীর এখন পর্যন্ত জানা সর্ববৃহৎ বস্তু। ১৯৩০ সালে যখন আবিষ্কৃত হয় তখন একে নবম গ্রহ হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন গ্রহের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করার পর প্লুটো তার গ্রহত্ব হারায়। প্লুটোর কক্ষপথ অন্যদের তুলনায় বেশি উৎকেন্দ্রিক যা ভূকক্ষের সাথে ১৭ ডিগ্রি কোণ করে থাকে। সূর্যের সাপেক্ষে প্লুটোর অনুসূর ২৯.৭ এইউ এবং অপসূর ৪৯.৫ এইউ। বোঝাই যাচ্ছে, এই কক্ষপথ নেপচুনের কক্ষপথকে ছেদ করে। প্লুটো রেজোন্যান্ট বেষ্টনীর মধ্যে অবস্থিত এবং নেপচুনের সাথে এর রেজোন্যান্স হচ্ছে ৩:২। অর্থাৎ, নেপচুন যে সময়ে সূর্যকে ৩ বার আবর্তন করে সে সময়ে প্লুটো সূর্যকে ২ বার আবর্তন করে। কাইপার বেষ্টনীর অন্যান্য যেসব বস্তু এই রেজোন্যান্স মেনে চলে সেগুলোকে প্লুটিনো বলা হয়।
শ্যারন প্লুটোর বৃহত্তম প্রাকৃতিক উপগ্রহ। এটা উপগ্রহ হিসেবে থাকবে না তাকে বামন গ্রহের মর্যাদা দেয়া হবে এ নিয়ে সন্দেহ আছে। প্লুটো এবং ক্যারন উভয়েই তাদের সাধারণ অভিকর্ষ বিন্দু তথা ভারকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে পরষ্পর পরষ্পরকে আবর্তন করে। এভাবে দুয়ে মিলে একটি যুগল ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছে। তুলনামূলক ছোট বাকি চারটি উপগ্রহ তথা নিক্স,হাইড্রা,স্টিক্স এবং কার্বেরোস আবার প্লুটো ও শ্যারনকে আবর্তন করে।




Comments